মাহবুবুল আলম রবিন
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, 5:54 PM
কালের ছবি অনুসন্ধ্যান : খাদ্যকর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দূর্নীতির বহুমাত্রিক অভিযোগ
পর্ব-১
প্রচ্ছদ
জাতীয়
কালের ছবি অনুসন্ধ্যান : খাদ্যকর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দূর্নীতির বহুমাত্রিক অভিযোগ
#
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, 5:54 PM
news image
পর্ব-১
দেলোয়ার হোসেন একজন দুর্নীতিবাজ খাদ্য কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) হিসবে দায়িত্বরত আছেন। খাদ্য বিভাগে এই দেলোয়ার হোসেন একজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হলেও আজানা কোন কারণে তার সব দুর্নীতিকে ছেপে তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন।
ভূয়া হিসাব দেখিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে সংরক্ষিত জনগণের বিশেষ প্রয়োজনের চাউল চুরি করে বিক্রি করে নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। ময়মনসিংহ সি, এস, ডি গুদামে ব্যবস্থাপক থাকাকালীন ও সেখানে সরকারি চালের ঘাটতি ও কাগজে-কলমে ভুয়া হিসাব দেখিয়ে গুদামের সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ অন্যতম। এর বাইরে বারহাট্টা খাদ্য গুদামের দায়িত্বপালনের সময় তার দূর্নীতির খবর চাউর হওয়ায় ইউএনও র বার্ষিক নিরীক্ষার সময় নথির তুলনায় খাদ্য গুদামে ৯.৪৪০মেট্রিক টন ধান বেশি এবং ৪৪৬৭খালি বস্তার ঘাটতি পাওয়া যায়। এ নিয়ে সে সময় তাকে শোকজ করা হলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।
জানা যায, নান্দাইল উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় গড়ে তোলেন বিশাল সিন্ডিকেট এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নান্দাইল খাদ্য গুদাম কে বানিয়ে তোলেন দুর্নীতির আখড়া। ধান্দাইলের ১৩টি ইউনিয়নের খাদ্য বন্ধব কর্মসূচির ৫০ জন ডিলার নিয়োগ দেন তার পছন্দ সই ব্যক্তিদের। এসব ডিলারদের পূর্বের কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ডিলার নিযুক্ত করেন।
এ নিয়োগের তিনি ছিলেন সদস্য সচিব। তার এহেন অপকর্মের কারণে আলোচনা, সমালোচনা,ও তোপের মুখে নিয়োগ বাতিল করে লটারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ করেন। খাদ্য গুদামের ভালো চাল বিক্রি করে নিম্নমানের চাল মজুদ করতেও তিনি দ্বিধা করেননি।
এতে করে প্রমাণ করেন দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমেই চলছিল তার কার্যক্রম। নান্দাইল খাদ্যগুদামের দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে নেত্রকোনা মোহনগঞ্জে বারহাট্টা খাদ্য গুদামের দায়িত্বে ছিলেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। ডিলারদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়া নেওয়া সহ নিয়মিত অফিস না করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিছন্নতা কর্মী দের দিয়ে করানোর অভিযোগ উঠে।
এখন আবার পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে, এখানেও কিন্তু তিনি থেমে নেই এই চতুর কর্মকর্তা।
তার নিয়ন্ত্রিত চিতলমারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাইমিনুল কে নিয়ে গড়ে তোলেনএক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মোহাইমিনুল এর মাধ্যমে কৃষকের দান সংগ্রহের হয়রানি সিন্ডিকেটের প্রভাব ও ডিলার দের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা, স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। সেখানেও তিনি জন্মদেন আলোচনা, সমালোচনার।
বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে এলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মুহাই মিনুল সহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন কে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন দেলোয়ার হোসেন তড়িঘড়ি করে ২৩ শে জুলাই ২০২৬ এ ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্য দিবসের ভিতরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন,কিন্তু তিন মাসেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি।
এই চতুর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নারি কেলেঙ্কারির কথা উঠে আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এহেন অপকর্মের পরেও অশুভ শক্তির ছোঁয়ায় তিনি পার পেয়ে যান, যেখানেই তিনি সমালোচিত হন সেখান থেকেই তিনি মন্ত্রণালয় থেকে জোর তদবির করিয়ে বদলি হয়ে জান অন্যত্র। ফেসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে খ্যাত দেলোয়ার এখন খাদ্য বিভাগের অন্যতম আলোচানার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ফ্যাসিস্ট আমলের এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা খুঁটির জোর কোথায় তা আজও অজান