নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, 3:04 PM
পপুলার শনিরআখড়ায় হাসপাতালের নিউজ করায় সম্পাদককে ব্ল্যাকমেইল ও হত্যার হুমকি: ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ‘দৈনিক স্বাধীন সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ও এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ (৪৭) বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্ল্যাকমেইলার চক্রের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— কদমতলী থানার রায়েরবাগ স্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা (৩৫) ও জাহিদ হাসান (৪৫)। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শনিরআখড়াস্থিত ‘পপুলার হাসপাতাল’ নিয়ে দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই বিবাদী আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা ও জাহিদ হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক পনির আহাম্মেদকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সাংবাদিক পনির আহাম্মেদ পূর্বেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।(জিডি) করার পর চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন সহকর্মীদের মাধ্যমে বার্তা পাঠায় যে, মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে সম্পাদকের একটি ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, চক্রটি ‘অপসাংবাদিকদের মুখোশ উন্মোচন’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক পেজে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে পোস্ট দেয়। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি আইডি কার্ড ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারী সাংবাদিককে কু-প্রস্তাব দিয়েছেন। ভুক্তভোগী সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ জানান, "অভিযোগে যে নারীর কথা বলা হয়েছে, তাকে আমি কখনো দেখি নাই এবং সে আমার অফিসেও আসেনি। আমার পুরো অফিস সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমার ও আমার পত্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারীর অজুহাতে এই ভুয়া পোস্ট দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চক্রটি ফোন করে ক্রমাগত তাঁকে হয়রানি করছে এবং লোক মারফত ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার ও ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আত্মসম্মানের ভয়ে বর্তমানে তিনি ফোন ধরা বন্ধ রেখেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের ‘হানি ট্র্যাপ’ বা নারীঘটিত ফাঁদে ফেলে ব্লাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে আসছিল। ইতিপূর্বেও তাদের এই ধরণের অপরাধের কিছু প্রমাণ দৈনিক স্বাধীন সংবাদের হাতে এসেছে এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরা এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পত্রিকায় জমা দিয়েছেন। বিষয়টি টের পেয়েই চক্রটি, সুপরিকল্পিতভাবে সম্পাদকের ওপর চড়াও হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকার বক্তব্য: নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কদমতলী থানার রায়েরবাগ স্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের গণমাধ্যম কর্মী আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা বলেন, "আমি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততার সাথে মিডিয়া অঙ্গনে কাজ করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনও আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।"
তিনি এটিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে আরও বলেন, "বিজ্ঞ আদালত বন্ধ থাকার কারণে আমি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে আদালত খুললেই আমার বিরুদ্ধে যারা এই ধরনের নোংরা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ কে এম মইনুদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।