নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, 1:58 PM
আশুলিয়ায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ছেলের নামে লাখ টাকার বাণিজ্য
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নতুন শাখার সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে সরকারি জায়গায় স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে ভাড়া ও অগ্রিমের নামে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রিয়াজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চারটি দোকান থেকে প্রতিটি দোকানের বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম এবং মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। রিয়াজের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে তাসরিফের নামে দোকানগুলো লিজ নেওয়া হয়েছে। তবে দোকানগুলোর বৈধতার পক্ষে কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই করে বৈধতা নিশ্চিত হওয়া না গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অনুসন্ধানে আরও একটি অসংগতি সামনে এসেছে। রিয়াজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে তাসরিফের বয়স ২৭ বছর। অথচ তিনি দোকানটি ১৯৮৯ সালে লিজ নেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে লিজের সময়কাল ও গ্রহীতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে মূল নথি যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে, সরেজমিনে তাসরিফকে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর নামে দোকান নেওয়ার দাবি এবং বর্তমান অবস্থাকে ঘিরে দোকানগুলোর আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব ও তাঁর কল্যাণ নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অনুমোদন, লিজের বৈধতা এবং অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ার অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কে—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।