ঢাকা ০১ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
দুদকের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ জেনারেল গ্রুপের নামে প্রকাশ্য নগদ টাকার হাট: কুম্ভনিদ্রায় দেশের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট পপুলার শনিরআখড়ায় হাসপাতালের নিউজ করায় সম্পাদককে ব্ল্যাকমেইল ও হত্যার হুমকি: ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি দল নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী: কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিচ্ছেন তারেক রহমান বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ‎সরাইলে ১৪ বছরের শিশু মিমকে ধর্ষণের অভিযোগে মানববন্ধন, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি গাজীপুর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী মৃত্যু, স্বামী আটক উচ্চ রক্তচাপ মোকাবেলায় টেকসই অর্থায়নের আহ্বান: সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা বৈচিত্র্যের মাঝে সহাবস্থান: ধর্মীয় উৎসবে আন্তঃধর্মীয় সৌহার্দ্য জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ’ পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আভানের মৃত্যু: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার ইউনিভার্সেল মেডিকেলের

#

১০ অক্টোবর, ২০২৬,  12:45 AM

news image

ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত চার বছর বয়সী ওয়াইজ কুরুনী আভানের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়নি বলে দাবি করেছে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়। একই সঙ্গে আভানের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

হাসপাতালের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বর ও নাক দিয়ে রক্তপাত নিয়ে আভানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হেমোরেজিক ডেঙ্গুর সন্দেহে তাকে শিশু ওয়ার্ডে রাখা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের উপস্থিতি ধরা পড়লে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও সিআরপি, ফেরিটিন, প্রোক্যালসিটোনিন, এসজিপিটি ও এসজিওটির পরীক্ষার ফল শিশুটির ডেঙ্গু এক্সটেন্ডেড সিনড্রোমের সঙ্গে ক্লিনিক্যালভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। সেই বিবেচনায় চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আভানের ভাইটাল সাইন ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রফেসর ডা. মাহফুজা শিরীন তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য পিআইসিইউতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। তবে হাসপাতালের দাবি, ওই সময় শিশুটির মা পিআইসিইউতে স্থানান্তরে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরদিন ২ অক্টোবর সকালে শিশুটির রক্তচাপ আরও কমে গেলে ওয়ার্ডেই ফ্লুইড দেওয়া শুরু হয়। পরে দুপুরে রোগীকে পুনরায় পরীক্ষা করে প্রফেসর মাহফুজা শিরীন দ্রুত পিআইসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরিবারের সম্মতির পর বিকেল ৪টার দিকে আভানকে পিআইসিইউতে নেওয়া হয়।

পিআইসিইউতে নেওয়ার পর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে হার্টসল, প্লাজমাসল, ডোব্যুটামিন ও নর-অ্যাড্রেনালিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানায় হাসপাতাল। তবে এসব চিকিৎসার মধ্যেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত থাকে।

৩ অক্টোবর সকালে ট্রপোনিন-আই ও প্রো-বিএনপির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা মায়োকার্ডাইটিসের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেন। এ সময় আভানকে আইভিআইজি ও মিথাইলপ্রেডনিসোলোন দেওয়া হয়।

ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা আরও বেড়ে গেলে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিভি লাইন স্থাপন করা হয়। পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সিপিআরের মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে বিকেল ৫টা ২ মিনিটে শিশুটির মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের দাবি, চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং যেকোনো সময় লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে—এ বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়েছিল। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরও পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর পর আভানের সব প্রিন্টেড ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট এবং ডেথ সার্টিফিকেট স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলেছে, তাদের পিআইসিইউ ও এনআইসিইউতে দীর্ঘদিন ধরে জটিল অবস্থায় থাকা শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব ইউনিটে ২৪ ঘণ্টা শিশু বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত নার্স ও মেডিকেল অফিসারদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

এদিকে আভানের মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ফেসবুকে প্রকাশ্যভাবে হাসপাতালে ‘মব’ তৈরির আহ্বানও জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের ভাষ্য, এ ধরনের প্রচার ও সহিংসতার হুমকি চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে ভয় তৈরি হলে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, খণ্ডিত তথ্যের ভিত্তিতে জনরোষ সৃষ্টি না করে চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঘটনাটি বিবেচনা করা উচিত।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম