নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, 10:09 PM
প্রতারণা ও প্রলোভন সৃষ্টির অভিযোগ শিক্ষক মঞ্জুরুল হক এর বিরুদ্ধে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মঞ্জুরুল হক। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও প্রলোভন সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক লাভবান হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, ব্যক্তি মঞ্জুরুল হক কোটি কোটি টাকার মালিক।
এই টাকা অর্জনের পথে হাটতে গিয়ে মহান এই শিক্ষক উপাধিধারি এই ব্যক্তি জীবনের নানা সময়ে জড়িয়েছেন নানা বিতর্কে। সূত্র বলছে, নিজের সরকারি চাকুরির গ্লামার্স ব্যবহার করে মঞ্জুরুল ইসলাম নানা জনের সাথে আর্থিক লেনদেনের বিতর্কে জড়িয়েছেন। এদের অনেকের সাথেই প্রতারণার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি।
সূত্র বলছে, সরকারি চাকুরে হয়েও এই শিক্ষক সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডেভলপার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। এই ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রলোভন দেখিয়ে একের পর এক প্রতারণা করছেন তিনি।
জানা যায়, রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় কসমোপলিটন স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি। সেখানে বিতর্কে জড়ান এই শিক্ষক। এর এক পর্যায়ে কসমোপলিটন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। সূত্র বলছে, ২০২১ সালে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় মসজিদের উত্তর পাশের ভবন মাসিক সাড়ে ছয় লক্ষ টাকায় ভাড়া নিয়ে ব্রাইটন একাডেমি নামক আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে গিয়ে সেখানে প্রতারণার আশ্রয় নেন এই শিক্ষক। সেখান থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন।
সূত্র বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে শেয়ার ভিত্তিক ডেভলপার ব্যবসার রমরমা বানিজ্য করে চলেছেন এই শিক্ষক নামের মঞ্জুরুল ইসলাম। এই সব শেয়ার বাণিজ্য করতে গিয়ে অনেকের সাথেই লেন দেনের ঝামেলায় জড়ান তিনি। এসব প্রজেক্ট ঘিরে তার প্রতারণার বিষয়ে কেউ কথা বললেই নানাভাবে তাকে হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সূত্র বলছে, নাম মাত্র স্কুলে হাজিরা দিয়েই তিনি নেমে পড়েন তার ব্যবসা বিস্তারের মিশনে। স্কুলের নিজের কক্ষটিকে বছরের পর বছর ব্যবহার করছেন ডেভলপার ব্যবসার মিনি অফিস হিসেবে।
সব চেয়ে বড়কথা, তিনি যে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন সেই অর্থের হিসেব মেলাতে নিজের সরকারি চাকুরির পরিচয় গোপন করেই চলতে হচ্ছে তাকে। এ কারণে প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট করেও কোন প্রকার ট্রেড লাইসেন্স নেই তার। তাহলে অর্জিত অর্থ ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শিত হচ্ছে কোন পদ্ধতিতে। নাকি এখানেও তথ্য গোপন বা প্রতারণার কোন কৌশল নিতে হচ্ছে তাকে।
এসব নিয়ে অনুসন্ধ্যানরত গণমাধ্যম কর্মিদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখানোর মতো অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলতে কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম খুব কম সময় অফিস বা স্কুলের কাজ করেন। সামান্য সময়ের জন্য স্কুলে আসলেও সেই সময়ের অধিকাংশই কাটে তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের নিয়ে।
এ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও মুখ খুলতে সাহস নেই অনেকের। কারণ মঞ্জুরুল ইসলামের টাকা ও পেশী শক্তির পাশাপাশি দূনীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে তার দহরম মহরম সবার জানা। সব মিলে শিক্ষকতার নামের আড়ালে প্রতারণার এক খোলস পরে রাষ্ট্র, সমাজের পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে নৈতিক প্রতারণা করে চলেছেন তিনি।