মোঃ মাহাবুবুর রহমান
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 7:51 PM
সরকারি গ্যাস চুরিকে জায়েজ মনে করেন হাজী হান্নান
সরকারি গ্যাস চুরি করে ব্যবহার করাকে জায়েজ মনে করেন হাজী হান্নান। ধর্মের লেবাসে আবৃত এই হাজী সাহেব নিজ এলাকায় একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় দারুস সালাম মসজিদ কমিটি সভাপতি দায়িত্বে আছেন তিনি। নিজে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
বহু ব্যবসার পাশাপাশি রয়েছে রাজধানীর মহুৎ টুলিতে প্যাকেজিং ফ্যাক্টরিও। ধর্মীয় লেবাসে আপদমস্তক কেতা দূরস্ত এবং নিয়মিত লম্বা দাঁড়িতে মেহেদী রং মেখে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতসব সৎ ও শুভ গুণাবলির মাঝে সম্মানিত হাজী নামের সাথে কখন যেন সরকারি সম্পদ চুরির তকমা লেগে গেছে এই হাজী সাহেবের নামের সাথে।
সূত্র বলছে, দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই হাজী সাহেব নিজের বাড়িতে সরকারি গ্যাস চুরি করে অবৈধ লাইন ব্যবহার করে চলেছেন। শুধু নিজেই ব্যবহার করছেন না, গ্যাস চুরি সিন্ডিকেটের সাথে রয়েছে তার গভীর যোগাযোগ। নিজের বাড়িতে চুরির গ্যাস সংযোগের সাথে সাথে এলাকার বহু বাড়ি ও কারখানাতে এই সিন্ডিকেট এর সাহায্যে অবৈধ গ্যাসের সংযোগের অংশীদারও এই হাজী হান্নান।
সরকারি গ্যাস চুরি করে নিজ বাড়িতে ব্যবহার এবং আরো বহু বাড়িতে সংযোগ দিতে সিন্ডিকেটকে সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক কালের ছবিকে তিনি বলেন, আমি সরকারের হিসাবেই পয়সা দিয়ে থাকি। এটা কোন অন্যায় কিনা সেটা আমি জানিনা।
সরকারি সম্পদ চুরি করে ব্যবহার করার নৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন এটা সবাই করছে আমিও করছি। কাকে টাকা দেন অফিসে দেন নাকি অন্য কাউকে এ বিষয়ে কয়েকজনের নাম বলেছেন হাজী হান্নান। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে গ্যাস চুরি সিন্ডিকেটের বিশাল এক তালিকা এসেছে দৈনিক কালের ছবির হাতে। বছরের পর বছর সরকারি গ্যাস চুরি করে অবৈধ ইনকামে এইসব সিন্ডিকেট সদস্যরা রাজধানীসহ সারাদেশে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের অনেকেই এখন শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। সেই টাকার জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেছেন এদের কেউ কেউ। রাজনৈতিক উচ্চ কানেকটিভিটি রয়েছে এই সিন্ডিকেটের নেতাদের। কেউ কেউ একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবেও নিজেদের পরিচয় দিয়ে চলেছেন।
অথচ ফ্যাসিস্টহাসিনার দোসর হিসেবে এরা পুরো সময় জুড়েই গ্যাস চুরির নেতৃত্ব দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন। যার সাথে জড়িয়ে আছে হাজী হান্নানদের মত বহু ধর্মের লেবাসি মানুষ। এ বিষয়ে আরো কথা বলতে চাইলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন হাজী হান্নান।