মোঃরাজিব উদ্ দৌলা চৌধুরী
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, 10:00 PM
সরকারকে জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ দিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর আহবান
# দুমাস বয়সের সরকারকে জনগণের জন্য কাজ করতে ব্যবসায়ীদেরকে পাশে থেকে সরকারকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দিন - অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
আসন্ন ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে আরও বাস্তবমুখী ও ব্যবসা বান্ধব করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভা আজ রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
এনবিআর এবং এফবিসিসিআই-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল-এর বলরুমে আয়োজিত এ সভায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা সরকার গঠন করেছি মাত্র দুমাস হল।বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া দায় দেনায় দেশ জর্জরিত, তা উত্তোরণের জন্য আমাদের সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচনী মেনুপেস্টু অনুসরণ করে অর্থাৎ নির্বাচনের পূর্বে জনগণের কাছে দেওয়া সকল ওয়াদা পালন করার কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে শুরু করেছি।
তিনি বলেন,দুই বছর আমাদের সহযোগিতা করেন,এরপর আমরা সকল কিছু জনগণের সহনশীলতার মধ্যে আনতে পারব বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, “একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে করনীতি হতে হবে সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব।”
তিনি ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তাদের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কর কাঠামোর সংস্কারের ওপর জোর দেন এবং রপ্তানিমুখী খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, “রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ আবদুর রহিম খান।
সভায় ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ারুল আজিম, বিটিএমএ-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং নারী উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে তারা করহার যৌক্তিকীকরণ, ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্পখাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজতর নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তা সহজিকরণের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সকলেরই একটি প্রস্তাব, কর,টিডিএস,ভ্যাটের পরিধি বাড়ানো এবং নুতন নূতন খাত বের করে যারা দিচ্ছে তাদের উপর হতে চাপ কমানো।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল করনীতি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন ধরনের বাজেট জনগণ প্রত্যাশা করে।
নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ করে অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার এবং নারীরক্ষেত্রে করের সীমা বৃদ্ধির দাবি জানান।
অত্যন্ত প্রাণবন্ত এআলোচনায় ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সুপারিশগুলো আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা ও মতবিনিময় সভা শেষে এক মধ্যাহৃ ভোজের আয়োজন করা হয়।