নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুলাই, ২০২৬, 1:33 PM
নতুন বিতর্কে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান
নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরে। এর অন্যতম বিতর্ক হচ্ছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আর্শিবাদপুষ্ট গণপূর্তের দূর্নিিতবাজ ও বিতর্কিত বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুর ব্যকডেটে বদলি দেখানোর ঘটনা। এর পাশাপাশি গণপূর্তে কাঠের কারখানা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে শতকোটি টাকার টেন্ডারে ঘাপলা করাসহ কাজ না করেও বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে টাকা তুলে নিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে খালিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি খালেকুজ্জামানের সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন পিডিকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু একই অভিযোগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও প্রধান প্রকৌশলী রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ দিকে খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণপূর্তে নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলার পাশাপাশি বদলি, টেন্ডারের কমিশন বাণিজ্যসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এমন অভিযোগ জানিয়ে দুদকের তদন্ত চাওয়া এবং সে ঘটনায় একজন সাংবাদিক প্রধান প্রকৌশলীর নামে সম্প্রতি মতিঝিল থানায় সাধারণ ডাইরি করেছে।
ঐ সাংবাদিকের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করলে প্রধান প্রকৌশলী তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। দুদকে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে আবেদনকারী মো. মানিক মিয়া দাবি করেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বরখাস্ত প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে ব্যাকডেটে বদলি দেখিয়ে পুনর্বহালের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেন। দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক উচ্চমূল্যের সরকারি দরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। আবেদনকারী মনে করেন। অভিযোগপত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজস্ব বলয়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা পদায়নের অভিযোগ রয়েছে। দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে গিয়ে হুমকির শিকার হওয়ার দাবি করেছেন দৈনিক সকালের স্টাফ রিপোর্টার মো. এমরান হোসেন।
মতিঝিল থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। জিডিতে সাংবাদিকের অভিযোগ, ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে তাকে “দেখে নেওয়া হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানান তিনি।
দুদকে দেওয়া অভিযোগ এবং থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি—দুটি ঘটনাই এখন প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি অভিযোগ দুর্নীতির সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে, অন্যটি অভিযোগকারী সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে, অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করে প্রতিবেদক বার বার ব্যর্থ হয়। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দুদকের তদন্তের আবেদন এবং মতিঝিল থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি দুটি বিষয়ই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।