নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬, 11:15 PM
রিহ্যাব নির্বাচনের পূর্বেই জাল জালিয়াতির অভিযোগ
জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখা আবাসন খাতের অভিভাবক সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংগঠনটির ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ১৮ এপ্রিল। ২৯টি পদের বিপরীতে তিনটি শক্তিশালী প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৮৮ প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনের নথিপত্রে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর সমস্যা রয়েছে। অর্থাৎ, মোট প্রার্থীর প্রায় ৩৬% ক্ষেত্রে সরাসরি নথিপত্র সংক্রান্ত জালিয়াতি বা অনিয়ম রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
সূত্র মতে- সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) পদপ্রার্থী একজন এবং ঢাকা থেকে ২ জন ও চট্টগ্রাম থেকে ১ জন সহ-সভাপতি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) পদপ্রার্থীর নথিপত্রেও বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। অন্তত ২৯ জন প্রার্থী, যারা দেশের সফল ব্যবসায়ী হওয়ার দাবি রাখেন, তাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমার কোনো বৈধ প্রমাণ বা দালিলিক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে তাদের টিআইএন দিয়ে তল্লাশি চালিয়েও কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানায় ওই সূত্র।
রিহ্যাব ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সমন্বিত সংগঠন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি যখন রিহ্যাবের সদস্য হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া আইনি বাধ্যবাধকতা। কিন্তু অনেক প্রার্থী ও ভোটার নিজেদের ব্যক্তিগত টিআইএন ব্যবহার করে সদস্যপদ টিকিয়ে রেখেছেন। সূত্র মতে, অন্তত ৭ জন শীর্ষস্থানীয় প্রার্থী ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইল ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়- শুধু প্রার্থীরাই নন, ভোটার তালিকা তৈরিতেও কোনো বাছবিচার করা হয়নি। প্রায় ৩০% ভোটারের নথিপত্রে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। অনেক ভোটার তাদের সদস্যপদ নবায়ন করার সময় ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার ও প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা হস্তান্তরের আগে প্রতিটি সদস্যের হালনাগাদ ট্যাক্স ফাইল, ট্রেড লাইসেন্স এবং কোম্পানি রিটার্ন যাচাই করা রিহ্যাব প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে- নির্দিষ্ট কিছু প্যানেল বা প্রভাবশালী প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি শিথিল করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রিহ্যাব নির্বাচনের এই চিত্রটি কেবল সাধারণ অনিয়মের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি জালিয়াতি। যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং সেই ভোটাধিকার ব্যবহার করে প্রার্থী হন, তবে সেই প্রার্থিতা শুরু থেকেই অবৈধ। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও গণ্য হতে পারে।
একাধিক ভোটার জানান, এই পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সাধারণ সদস্য আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের বক্তব্য হলো- রিহ্যাবের বর্তমান কাঠামোর বাইরের নিরপেক্ষ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা শতভাগ পুনঃনিরীক্ষণ করতে হবে। এনবিআর এবং আরজেএসসি-এর ডাটাবেসের সাথে রিহ্যাব সদস্য তালিকার সরাসরি এপিআই সংযোগ ঘটাতে হবে। এতে ভোটার বা প্রার্থীর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে এবং জালিয়াতি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
যারা জালিয়াতি বা ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি আজীবনের জন্য রিহ্যাব থেকে বহিষ্কার বা কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। বিষয়গুলো বাস্তবায়ন সম সময়সাপেক্ষ হলে নির্বাচন পিছিয়ে নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা জরুরি। বিতর্কিত নির্বাচনের চেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন দেরি হওয়া অনেক শ্রেয়।