ঢাকা ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বরুড়া ওসির প্রশ্রয়ে চলছে মাটি লুট যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসী আটককে “নাটক ” মনে করেন তিনি যাত্রাবাড়ীর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা যশোরে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীকে অপহরণ রাজধানী চন্দ্রিমা মডেল টাউনে রাজউকের অনুমোদন বিহীন ব্যাঙেরছাতার মতো ১০ ও ১৫ তলা ভবন গড়ে উঠেছে ডেমরায় ভবন নির্মাণ কাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি : থানায় জিডি শুরু হলো প্রিমিয়াম হোল্ডিং পিঠা উৎসব ও আবাসন মেলা কদমতলীতে নোঙর প্রকল্পে সন্ত্রাসী হুমকি: নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার শ্মশানের নামের দ্বদ্বে, মরদেহ সৎকারে বাধার অভিযোগ রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা জকসু নির্বাচন : ভোট গ্রহণ চলছে মানিকনগর থানা পুলিশের নাকের ডগায় চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

যেতে নাহি দিব হায়

#

জাহিদুল ইসলাম শিশির

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫,  10:48 AM

news image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে আজ এক বিরাট শূন্যতা। চলে গেলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া। তার জীবনাবসান ঘোষণার সাথে সাথে এক ধরণের চাপা কান্না চেপে বসেছে জাতির প্রতিটি নাগরিক প্রাণে।  এখানে  বার বার মনে পড়ছে


কবি গুরুর বিখ্যাত কবিতার লাইন- “এ বিশ্ব চরাচরে স্বর্গমর্ত ছেয়ে, সবচেয়ে পুরাতন কথা সবচেয়ে, যেতে নাহি দেব হায়!  তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়”। 


 দীর্ঘ  সংগ্রাম আর ফ্যাসিবাদী শাসনের নিষ্পেষণে অবশেষে জীবনের নিয়মে পার্থিব যাত্রা শেষ করে অনন্তের মহাযাত্রায় সামিল হলেন দেশ মাতৃকার প্রিয় ও গর্বিত সন্তান দেশের আপামর জনতার প্রিয়, শ্রদ্ধেয়  ও আস্থার ঠিকানা বেগম খালেদা জিয়া।


তিনি চলে গেলেন। প্রজন্মের সামনে রেখে গেলেন সাহস আর  দেশ মাতৃকার পক্ষে লড়ে যাওয়ার অমিত সাহসের  এক জ্বলন্ত উদহরণ। দেশ প্রেম সততা আর মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট থাকলেও সব বাধা উৎরানো যায়, ইতিহাসে বেগম খারেদা জিয়া তার অন্যন্য উদহরণ হিসেবে থাকবেন চিরকাল। শুধু বাংলদেশ নয় বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে তিনি  থেকে যাবেন স্বাধীনতা রক্ষা ও আধিপাত্যবাদ বিরোধী  আন্দোলনে অনাগত কালের বিপ্লবীদের প্রেরণা হিসেবে। 


 জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে চির ভাস্বর মহিষী এ নারীর নামাজে  জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় তাঁকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শায়িত স্বামী  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। 


 বাংলাদেশে আজ এক দিনের সাধারণ ছুটি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণাকরা হয়েছে।   পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজা, দাফনসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।  সাহসী ও দ্যুতিময় মহীয়সী এই নারীর চির অভিযাত্রার শোকে কাদছে  বাংলাদেশ।


তিনি প্রতিরোধ, সাহস ও ঐক্যের প্রতীক ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের অবসানের মতো। সারাটি জীবন তিনি কেবল দিয়েই গেলেন, নিলেন না কিছুই। লড়াই করে গেছেন দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য। এই ত্যাগের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনবার তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।


বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকাজে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য কাজ করবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।  এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের শেষ যাত্রায়  সংসদ ভবন পর্যন্ত নেওয়ার সময় পুরো রাস্তার দুই পাশে দাড়য়ে আজ তাকে  শ্রদ্ধাজানাবে জাতি। 




বেগম  জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে শোক ও পরিদর্শন বই খোলা হয়েছে। সেখানে গতকাল পর্যন্ত ২৮টি দেশের কূটনীতিক, কয়েকজন উপদেষ্টা, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাক্ষর করেছেন। 


 বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই সাত দিন দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা, দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণসহ নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। 


এক্সপ্রেসওয়ে-কুড়িল ফ্লাইওভার-নৌ সদর দপ্তর হয়ে বাসভবন ফিরোজা-গুলশান-২-কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ-এয়ারপোর্ট রোড-মহাখালী ফ্লাইওভার-জাহাঙ্গীর গেট-বিজয় সরণি-উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে ডানে মোড় নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পশ্চিম প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হবে দেশনেত্রীর  জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন। কফিন বহনকারী কনভয়ের যাতায়াতের সময় সংশ্লিষ্ট সড়কসমূহে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।


ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি : গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সংগ্রামে দীর্ঘ শক্তিশালী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। তার মধ্যে ২০১১ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাঁকে ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি পদকে ভূষিত করে।


যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেট কর্তৃক কোনো বিদেশি রাজনৈতিক নেতাকে এ ধরনের সম্মান দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম ছিল বলে জানানো হয়। গণতন্ত্র, সাংবিধানিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অনবদ্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এসব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার রক্ষা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও অবদানের প্রতিফলন।




সংক্ষিপ্ত জীবনী : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল, ১৯৯৬ সালে মাস দুয়েক এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিন দফায় ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী। দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও গণতন্ত্র রক্ষার্থে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করানোর জন্য ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।


খালেদা জিয়ার পরিবার : বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত নাম খালেদা খানম, ডাক নাম পুতুল। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তাঁর পিতামহ হাজি সালামত আলী, মাতামহ জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান।


বাবা এস্কান্দার মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। খালেদা জিয়ার স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে প্রথম ব্রিগেড জেড ফোর্সের কমান্ডার ও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান, সাবেক ভিশনারি রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তারেক রহমান (জন্ম : ২০ নভেম্বর ১৯৬৭)


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (জন্ম : ১২ আগস্ট, ১৯৭০)। আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। আরাফাত রহমান একজন ব্যবসায়ী ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।




খালেদা জিয়ার স্থায়ী নিবাস : দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া খালেদা জিয়ার বাড়ি। আদি পিতৃভিটা ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। বাবা এস্কান্দার মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। এস্কান্দার মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি বসবাস করেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একজন গৃহিণী।


খালেদা জিয়ার বিয়ে : ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডিএফআইয়ের অফিসার হিসেবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন তিনি।




সংসার জীবন : ১৯৬৫ সালে খালেদা জিয়া স্বামীর সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান) যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর পোস্টিং হলে তাঁর সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর একালায় বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন।


২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে এস আবদুল্লাহর বাসা থেকে পাকসেনারা তাঁকে দুই ছেলেসহ বন্দি করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগপর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও রাজনীতিতে বেগম জিয়ার কোনো উপস্থিতি ছিল না।




রাজনীতিতে বেগম জিয়া : ১৯৮১ সালের ৩০ মে কতিপয় উচ্চাভিলাষী সেনাসদস্যের এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের আহ্বানে তিনি ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।


বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।




আন্দোলন-সংগ্রাম : ১৯৮৩ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাতদলীয় জোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩-এর সেপ্টেম্বর থেকে সাতদলীয় জোটের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তাঁর নেতৃত্বে ৭ দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের সঙ্গে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাধার সৃষ্টি হয়।


১৫ দল ভেঙে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচদলীয় জোট আন্দোলন চালায় এবং সে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে সব কটিতেই জয়লাভ করেন।




১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তাঁর সরকার দেশে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির বদলে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার কায়েম করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। খালেদা জিয়া ও তাঁর দল একক নির্বাচন করে।


এই সংসদ মাত্র ১৫ দিন স্থায়ী হয়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস হয় এবং পরে খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। এটি মূলত দেশকে তৎকালীন সৃষ্ট গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সংকটের হাত থেকে রক্ষায় জাতীয় সংসদে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করানোর জন্যই তিনি এই নির্বাচনের আয়োজন করেন।




১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মোট ১১৬ আসনে জয় লাভ করে। সে সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিএনপি। তিনি তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া এই সংসদেও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়।




গ্রেপ্তার ও কারাগার : ১৯৭১ সালের ২ জুলাই ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে দুই শিশু পুত্রসহ বেগম খালেদা জিয়াকে পাকবাহিনী গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখে। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে মোট ছয়বার তিনি গ্রেপ্তার হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন।


২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর ৩ তারিখে পুত্রসহ গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি হাই কোর্টের নির্দেশে মুক্তিলাভ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাগারে ছিলেন তিনি। ভোটারবিহীন দখলদার আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দুদকের করা মামলায় ফরমায়েসি রায়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ১০ বছরের সাজা দেয়। তখন তিনি প্রায় আড়াই বছর নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তিনি মুক্তি পান।




সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদ : ১৩ নভেম্বর ২০১০ বেগম জিয়াকে বলপ্রয়োগে তাঁর ৪০ বছরের আবাসস্থল ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের অনুগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিজের বাসা থেকে বের করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া।


১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হলে ১২ জুন তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেন। সে বাড়ি থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাঁকে উচ্ছেদ করেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল পুত্র তারেক রহমান।


মায়ের মৃত্যুর আট ঘণ্টা পর জাতির উদ্দেশে মাকে নিয়ে লিখেন নিজের আবেগ, অনুভূতি এবং মনের ভিতরের কথা। মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম