নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 12:56 PM
মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ও মেধাবীদের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র - ডাক্তার শফিকুর রহমান
বায়েজীদ হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশুই শিক্ষাবঞ্চিত হবে না। মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে সুযোগ করে দেওয়া হবে এবং মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত সরকারি খরচে পড়াশোনা করবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যে পরিবার সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে অক্ষম, রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব নেবে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করে কাজ করতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়। অতীতে যারা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, অপপ্রচারের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না।
নওগাঁর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চাপ বিবেচনায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলকে কৃষি শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে ব্যবহারিক ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
পর্যটন খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুসুম্বা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। সেই অর্থ উদ্ধার করে অবহেলিত অঞ্চল থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তরুণ সমাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা ভাতা নয়—কর্মসংস্থান চায়। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের কর্মক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে।
নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। নারী নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করাই জামায়াতের লক্ষ্য।
বক্তব্য শেষে তিনি নওগাঁর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।