মোঃরাজিব উদ্ দৌলা চৌধুরী
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, 4:42 PM
প্রাক বাজেট আলোচনায় : রাজস্ব আহরনের টার্গেট ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা
আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নকে সামনে রেখে আজ অনুষ্ঠিত হলো প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভার আজ শেষ দিন।
যেখানে দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা তাদের প্রত্যাশা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবমুখী প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান খান।
দিনব্যাপী এই আলোচনায় দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং রাজস্ব নীতিতে কার্যকর সংস্কারের আহ্বান জানান।
প্রথম অধিবেশনে অংশ নেয় বিভিন্ন পেশাধারী সংগঠন যেমন : কস্ট অব ম্যানেজম্যান্ট (সিএমএ), চাটার্ড একাউন্ট্যান্ট (সিএ), চাটার্ড সেক্রেটারিয়েট, ট্যাক্স ল ইয়ার্ড এসোসিয়েশন, সি এন্ড এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট,ফ্রেইট ফরওয়ার্ড,ইনডেন্টিং এজেন্ট, ভ্যাট কনসালট্যান্ট এবং ন্যাশনাল বার এসোসিয়েশন।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের চাপের কারণে ব্যবসায়ীরা যেমনি বি়ভিন্ন সমস্যার মূখোমূখি হচ্ছে, তেমনি আমরা যারা তাদের সাথে সম্পৃক্ত তারাও সমস্যায় জর্জরিত।
এ অবস্থায় কর ও শুল্ক নীতিতে সহনশীলতা না থাকলে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতিগত প্রণোদনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক এসোসিয়েশন, ইকোনোমিক রিসার্চ গ্রুপ,বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভোলাপম্যান্ট, এন্টি টোবাকো এলাইয়্যান্স,এস এম ই ফাউন্ডেশান,পলিসি রিচার্স ইন্সটিউট এবং ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চ প্রতিনিধিরা তাদের ব্যবসায়িক ও পেশাদারিত্বের বাস্তবতা তুলে ধরে কর কাঠামোর যৌক্তিকতা, করহার পুনর্বিন্যাস এবং বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এস আরও জারি করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসায়ে নিরুৎসাহিত করছে বলে আলোচনায় স্থান পায়।পাশাপাশি তামাকের উপর সর্বোচ্চ কর আরোপের প্রস্তাব আবারও উঠে আসে।
সভায় অংশগ্রহণকারী সকল সংগঠন তাদের প্রস্তাবনার লিখিত কপি চেয়ারম্যানের নিকট পেশ করেন, যা আসন্ন বাজেট প্রণয়নে বিবেচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
এসময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর নীতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যানকে সহায়তা করেন। এছাড়া, এনবিআরের একমাত্র গ্রেড-০১ সচিব পদমর্যাদার সদস্য ফারজানা আফরোজও সভায় উপস্থিত ছিলেন। যদিও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আরও দুটি পদই অদ্যাবধি শূন্য রয়েছে। উপস্থিত সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আলোচনাটি প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।
সভাপতির বক্তব্যে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান খান বলেন, “শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাবনা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করবো একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বিনিয়োগবান্ধব ও রাজস্ব-সহায়ক বাজেট প্রণয়ন করতে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।”
দিনব্যাপী এই মতবিনিময় সভা ছিল সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ, যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এসব প্রস্তাবনার প্রতিফলন ঘটবে—এমন আশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা