ঢাকা ১৫ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পৌর করের বিনিময়ে কাদামাটির রাস্তা :আক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নের অপেক্ষায় দেবব্রত গপি স্যার, মামুন নন্দ ঘোষরা গুণগত পণ্য ও আস্থার সম্পর্ক গড়তে নোভেরা পেইন্টসের মতবিনিময় সভা নীলফামারী জেলা পুলিশে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক ‘সাইবার সেল হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আহরণে ভারসাম্য নিয়ে তামাক খাতে নতুন কর কাঠামোর প্রস্তাব প্রান্তিক ব্যবসায় ভ্যাট কাঠামো চালু হচ্ছে ন্যূনতম ১ হাজার, সর্বোচ্চ ১০ হাজার দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিমদের পাশে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এলপিজিতে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব, স্বস্তি ফিরতে পারে কোটি গ্রাহকের ঘরে সরকারি চাকরিতে বয়স সীমা তুলে দেয়ার চিন্তা করছে সরকার আলহাজ্ব ফিরোজ মাস্টার সাহেবের স্মরণে স্মরনসভা ও দোয়া মাহফিল

পৌর করের বিনিময়ে কাদামাটির রাস্তা :আক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নের অপেক্ষায় দেবব্রত গপি স্যার, মামুন নন্দ ঘোষরা

#

পারভিন আক্তার, ধামরাই প্রতিনিধি

১৪ জুন, ২০২৬,  9:35 PM

news image


পারভীন আক্তার (ধামরাই থেকে): আপনারা যদি গ্রামের কর্দমাক্ত কাঁচা সড়ক আর বেহাল রাস্তাঘাট দেখে গর্ব করতে চান, তাহলে চলে আসুন ধামরাই পৌরসভায়। রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা এটি। এই উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধামরাই পৌরসভা। এখানে পৌর কর দিয়ে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। সরকারের খাতায় এটি ১ম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পেলেও পৌর নাগরিক সেবার লেশমাত্র নেই এখানে। গণমাধ্যমে মাঝে-মধ্যে এ নিয়ে গতানুগতিক সংবাদ প্রকাশ হলেও অজানা কারণে এখানে উন্নয়নের দেখা মেলে না।

পৌরসভার এমন একটি রাস্তা হলো ধামরাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লাকুড়িয়াড়া ভূমি অফিস সংলগ্ন সড়ক। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার লোক যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কটি দেখলে প্রাচীন বাংলার কাঁচা মাটির পথের কথা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অথচ এখানকার লোকজনের কাছ থেকে নিয়মিত পৌর কর আদায় করা হয়। কেন এ রাস্তাটি আজও এমন শ্রীহীন অবস্থায় পড়ে আছে, সে আক্ষেপ এলাকার ধনী-গরিব, বৃদ্ধ-যুবক সবার।

সেই আক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় দেবব্রত গপি স্যার, মামুন নন্দ ঘোষ, রতন ডলারসহ অনেকেই। এসব মানুষ পৌর প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও রাস্তাটির উন্নয়নের কোনো কিনারা করতে পারেননি। তাদের মতে, এলাকার সব মানুষের প্রত্যাশা— রাস্তাটি পৌরসভার উদ্যোগে অথবা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে দ্রুত পাকাকরণের ব্যবস্থা করা হোক।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নন্দ ঘোষ দৈনিক কালের ছবি প্রতিনিধিকে বলেন, “বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ও রাস্তা মেরামতের কাজের কোনো উদ্যোগ নেই। এতে এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম সমস্যায় আছে। খোদ রাজধানীর বুকে এমন একটি পৌর গ্রাম। এটা একটা কৌতুক ছাড়া কিছুই হতে পারে না।”

শুধু এই একটি রাস্তা নয়, ঢাকার ধামরাই পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বড়বাজার-বরাতনগর (হার্ডিঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ) পর্যন্ত রাস্তাটির করুণ অবস্থার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বৃষ্টি না হলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। ফলে রাস্তাটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় কোনো অটোরিকশা চালক এই পথে চলাচল করতে চান না। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিশেষ করে হার্ডিঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পানি জমে থাকার কারণে কোথাও কোথাও ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সড়কটিতে স্ট্রিট লাইট না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মহল্লাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ধামরাই পৌর প্রশাসক মো. আল মামুন বলেন, “রাস্তার কী অবস্থা, দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ধামরাই উপজেলার প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রধান সড়কের এমনই বেহাল দশা। এই সড়কগুলো নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে আছেন পৌরবাসী। রাস্তাগুলোতে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা গোটা সড়ক। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসীসহ এই শহরে আসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ।

এমন দৃশ্য দেখা যায় ধামরাই পৌরসভায়, যেখানে প্রায় প্রতিটি রাস্তা এখন মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধামরাই ইসলামপুর বাটা-সু কারখানার সামনে থেকে ছয়বাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা, বড় চন্দ্রাইল পাকা মোড় হতে ছোট চন্দ্রাইল সড়ক, জ্যোতি বিদ্যা স্কুল হতে বড় চন্দ্রাইল বাজার, থানার সামনে থেকে বরাতনগরের ভেতরের রাস্তা এবং কাগুজিয়া পাড়ার রাস্তার চরম বেহাল অবস্থা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া নেই। পুরো রাস্তা খানাখন্দে ভরা। রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে।

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চলাচলের রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার এক পাশে গর্ত করে রেখেছে ঠিকাদার। রাস্তার পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য চুঙিও পড়ে আছে। রাস্তা পাকাকরণের জন্য গর্ত করে রাখলেও বছরের পর বছর কাজ শেষ হয়নি। ফলে পাকা রাস্তার আশ্বাসে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি অসুস্থ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে।

তালতলা ও ছয়বাড়িয়া এলাকায় কোনো রিকশা, অটোরিকশা কিংবা সিএনজি যেতে চায় না। স্বৈরাচার সরকার পতনের পর ঠিকাদারেরও আর কোনো দেখা পাওয়া যায়নি।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাদা মাঠ, তালতলা ও নতুন দক্ষিণপাড়া মহল্লায় বৃষ্টি এলেই ভোগান্তি বেড়ে যায়। অনেক সময় মানুষের ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোর অবস্থাও একই রকম। কাগুজিয়া পাড়ার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। যানবাহন ধীরে চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জ্যোতিবিদ্যা স্কুলের পেছনের রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। নর্দমা ও ড্রেনের পানি রাস্তার ওপর চলে আসে। সারাদিন দুর্গন্ধের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। ফলে অনেক বাড়ির ভাড়াটিয়ারাও অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু একটি বা দুটি রাস্তা নয়, ধামরাই পৌরসভার অধিকাংশ সড়কই বর্তমানে অসুস্থ ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম