ঢাকা ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বরুড়া ওসির প্রশ্রয়ে চলছে মাটি লুট যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসী আটককে “নাটক ” মনে করেন তিনি যাত্রাবাড়ীর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা যশোরে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীকে অপহরণ রাজধানী চন্দ্রিমা মডেল টাউনে রাজউকের অনুমোদন বিহীন ব্যাঙেরছাতার মতো ১০ ও ১৫ তলা ভবন গড়ে উঠেছে ডেমরায় ভবন নির্মাণ কাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি : থানায় জিডি শুরু হলো প্রিমিয়াম হোল্ডিং পিঠা উৎসব ও আবাসন মেলা কদমতলীতে নোঙর প্রকল্পে সন্ত্রাসী হুমকি: নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার শ্মশানের নামের দ্বদ্বে, মরদেহ সৎকারে বাধার অভিযোগ রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা জকসু নির্বাচন : ভোট গ্রহণ চলছে মানিকনগর থানা পুলিশের নাকের ডগায় চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

জকসু নির্বাচন : ভোট গ্রহণ চলছে

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জানুয়ারি, ২০২৬,  11:51 AM

news image


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।


গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ধার্য করে নির্বাচন কমিশন।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে এই প্রথম জকসু নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে জগন্নাথ কলেজ থাকাকালে ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। প্রথম জকসু নির্বাচন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সংকট কাটিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনায় আশাবাদী তাঁরা।



ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' এর ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব ভোট দিয়েছেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুষদ কেন্দ্রে 

ভোট দিয়েছেন শিবির মনোনীত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম। আইন বিভাগ ছাত্রশিবির-আপ বাংলাদেশ-ইনকিলাব মঞ্চ সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেল এর জিএস প্রার্থী আব্দুল আলিম  ভোট দিয়েছেন। মনোবিজ্ঞান অনুষদ কেন্দ্রে। 

এবার একজন ভোটারকে ২১টি করে ভোট দিতে হবে। ভোট গ্রহণ হচ্ছে ওএমআর ফরমে, তিন পাতার ব্যালটে। এরপর ৬টি গণনা মেশিনে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে হবে ফলাফল গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে। ভোট গণনা সরাসরি দেখানো হবে তিনটা এলইডি স্ক্রিনে।


জকসু নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। ভোটকেন্দ্রসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। রাত থেকেই প্রবেশফটকে বিশেষ পাহারা বসানো হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস সদস্যরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন।



বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক গণমাধ্যমকে  বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ভোট গ্রহণের জন্য তারা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বেলা তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলবে।


 কোন পদে কত প্রার্থী: 


নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।


এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস পদে ৯ জন এবং এজিএস পদে লড়ছেন ৮ জন।


মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেলের পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদপ্রার্থী সায়্যিদা মুবাশ্বিরা ভোট শুরুর আগে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘জকসু নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটার—আমাদের সবারই বেশ আশা ছিল। কিন্তু কিছু প্যানেলের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানো এবং জকসু নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা—এসব শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।’


ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্যানেলের শীর্ষ পদে নারী নেই, সেখানে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি নারীর অধিকার আদায়ে কাজ করতে চাই; কিন্তু এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে নারীদের জন্য। নারীদের অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহ দেওয়া দরকার সেখানে বিভিন্নভাবে নারীদের হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’



জকসু নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। গতকাল সোমবার সরেজমিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদ, একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বর, শহীদ মিনার, টিএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক ঘুরে চোখে পড়েছে ভোট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ।


শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, জকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে যে উৎসাহ–আমেজ ছিল, তা নির্বাচন পেছানোতে কিছুটা কমে গিয়েছিল; কিন্তু এখন আবার সে আমেজ দেখা যাচ্ছে। আশা করি কাল (মঙ্গলবার) সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং প্রশাসন সুশৃঙ্খল একটা নির্বাচন আমাদের উপহার দেবে।’


 নির্দেশনা:

জকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।


নির্দেশনাগুলো হলো ভোট প্রদানের জন্য শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটক দিয়ে প্রবেশ করবেন, ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ও ৩ নম্বর ফটক দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে প্রস্থান করবেন; শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই কেবল ২ নম্বর ফটক দিয়ে প্রবেশ করবেন। কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আইডি কার্ড দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন এবং জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ক্যাম্পাসের বাইরে যাবেন না।


  ওএমআর যন্ত্রে অসংগতির অভিযোগ:

জকসু নির্বাচনের ভোট গণনার ওএমআর যন্ত্রে অসংগতির অভিযোগ এবং এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার ও সাধারণ শিক্ষার্থী সমন্বিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওএমআর যন্ত্রে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেন তাঁরা।


logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম