নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬, 9:44 PM
গণপূর্তে বিতর্কিত বদলী স্থগিতের পর এবার বেপরোয়া সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ দুই প্রকৌশলীর বিরিুদ্ধে
গত ৩, মার্চ গণপূর্ত অধিদপ্তরে একদিনে অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়। সে সময় এই বিতর্কিত বদলী ঘিরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতর বাহিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। সে প্রতিক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নির্দেশে বিতর্কিত সে বদলী আদেশ বাতিল করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে এমন বিতর্কের জন্ম দেয়ায় মন্ত্রী সে সময় মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কোন বদলী না করার নির্দেশনা দেন।
সেই বিতর্কিত বদলীর পেছনের কারিগর হিসেবে সে সময় উঠে আসে ঢাকা সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান-এর নাম। তাদের সে সময়ের কার্যক্রমে অনেকটাই বিব্রত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর্কিত বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সময় গড়াতে আবারো বেপরোয়া দূর্নীতি ও রাজনৈতিক বলয়ে সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে বিতর্কিত সেই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
সূত্র বলছে,এই দুই প্রকৌশলীর উচ্চাভিলাসী আচরণের কারণে গণপূর্তের অনেক প্রকৌশলী এখন দুদকের নজরদারির মধ্যে পড়েছেন। জানা গেছে, উল্ল্যেখিত প্রকৌশলীসহ বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর ব্যাপক সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।
দুদক সূত্র বলছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, টেন্ডার কারসাজি, নিম্নমানের কাজ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে দুদক।
অসাধু কর্মকর্তা-ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজুস্যে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল তৈরী করে সরকারি অর্থ আত্মস্যাৎ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ টেন্ডার সিন্ডিকেট গঠন করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এসব প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে ‘ভেরিয়েশন’ সুবিধার অপব্যবহার করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
এ দিকে ঢাকা সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি নিজের দূর্নীতি আড়াল করতে রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে বিশেষ সিন্ডিকেট গড়তে তৎপর হয়ে উঠেছেন। এ কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।
এ জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নানাভাবে চাপে ফেলে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিতে বাধ্য করছেন তিনি। যদিও গণমাধ্যমের কাছে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন “আমি ভালো কাজ করছি বলেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।