জাহিদুল আলম, ঢাকা
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 5:17 PM
ইতিবাচক রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত: ঢাকা-৯ এ সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগ্যতার লড়াই
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেখানে বহু আসনে উত্তেজনা, বিদ্বেষ ও কটু বক্তব্য চোখে পড়ে, সেখানে ঢাকা-৯ আসন হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক ইতিবাচক উদাহরণ। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানে সংঘাত নয়—বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভদ্রতা ও জনস্বার্থে কাজের অঙ্গীকার। কে জিতবেন বা হারবেন—তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, প্রার্থীরা মন জয় করেই এগোচ্ছেন।
এই আসনে ভোটারদের সামনে এসেছে এক অনন্য পরিস্থিতি। একাধিক যোগ্য ও কম্পিটেন্ট প্রার্থী থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ নয়। বিশেষ করে তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব, সামাজিক পরিবর্তন এবং নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির প্রতিশ্রুতি—এই তিন মানদণ্ডে ২–৩ জন প্রার্থীই ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
হাবিবুর রশিদ হাবিব একজন পরীক্ষিত ও জেনুইন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি এই এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। অরাজনৈতিক মানুষের কাছেও তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ রাজনৈতিক ইন্টিগ্রিটি। কখনো অন্যায় বা জুলুমে যুক্ত না হওয়া, বরং অন্যায়কে প্রতিরোধ করার দৃঢ় অবস্থান—এটাই তাকে আলাদা করেছে। প্রচারণায় তিনি সরাসরি ভোট চাইছেন না; বরং ভোটারদের অনুরোধ করছেন তার দীর্ঘ ৫৩ বছরের সামাজিক জীবন ও ৩৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা যাচাই করতে। “যদি কোনো খারাপ কিছু পান, ভোট দেবেন না”—এমন আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য তার নৈতিক দৃঢ়তারই প্রতিফলন।
ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত—প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন ফ্রন্টলাইনে। জেল-জুলুমকে সঙ্গী করেই রাজনীতির পথে থেকেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প সাধারণ মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় তার প্রতি গণমানুষের আগ্রহ ও আস্থা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বিতর্কে জড়াননি; কটু বক্তব্য বা নেতিবাচক প্রচারণা থেকে দূরে থেকে শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল রাজনীতির বার্তা দিচ্ছেন।
তার প্রচারণা কৌশলও ভিন্নধর্মী। পোস্টার-মাইকিংয়ের চেয়ে দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইনে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তার পক্ষে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো—এই দুই প্রধান প্রার্থীসহ ঢাকা-৯ আসনের সব ক্যান্ডিডেটই পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই ধারা বজায় থাকলে ঢাকা-৯ হতে পারে দেশের জন্য একটি মডেল আসন। যেখানে ভোটাররা ‘কে কম খারাপ’ নয়, বরং ‘কে বেশি যোগ্য ও দক্ষ’—এই বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন।
ঢাকা-৯ আসনের এই ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা প্রমাণ করে—ইচ্ছা থাকলে রাজনীতি হতে পারে ভদ্র, মানবিক ও উন্নয়নমুখী। দেশজুড়ে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছড়িয়ে পড়লে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে—এটাই সাধারণ মানুষের