জাকির হোসেন জিকু
১০ জুলাই, ২০২৬, 3:39 PM
তিনদি ব্যাপী আল মাহমুদ স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু
বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনদিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মরণোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আজাদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, কবি আল মাহমুদ স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, কবি জয়দুল হোসেন, কবি ছানাউল্লাহ, এইচ, এম, বাশার এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
অনুষ্ঠানে জেলার সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবিতাপ্রেমী ও শিক্ষার্থীরা অংশ করেন। কবি আল মাহমুদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মো. ইব্রাহিম সাদাতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসাইন জিহাদ।উদ্বোধনী বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন,
আল মাহমুদ কেবল একজন কবি নন, তিনি বাংলা ভাষার মাটি, মানুষ, প্রেম, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতায় যেমন গ্রামীণ বাংলার সৌন্দর্য ধরা পড়েছে, তেমনি উঠে এসেছে মানুষের সংগ্রাম, স্বাধীনতার চেতনা, শেকড়ের গভীর টান এবং জাতিসত্তার স্বপ্ন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর সাহিত্য থেকে প্রেরণা খুঁজে পাবে এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্যকে দীর্ঘদিন সমৃদ্ধ করবে।
‘জুলাই বিপ্লব ও আল মাহমুদের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ে বক্তব্যে সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব প্রমাণ করেছে, প্রকৃত কবির মৃত্যু হয় না। আল মাহমুদের কবিতা রাজপথ, গ্রাফিতি ও তরুণদের কণ্ঠে নতুন জীবন পেয়েছে; অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাঁর কবিতা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।অন্যান্য বক্তারা বলেন,
আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের এমন এক শক্তিমান কবি, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও জীবনাদর্শ পৌঁছে দিতে এ ধরনের স্মরণোৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।