ঢাকা ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায় ব্রিক সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী : অংশ নেবে না বাংাদেশের কোন প্রতিনিধি বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর বিটিএম ফেয়ারে চীনের উন্নত চিকিৎসার তথ্য তুলে ধরেন স্টেলা চ্যান ও এমএম মাসুমুজ্জামান চনপাড়ার অপরাধজগতের নেপথ্যে মোক্তারকে ঘিরে নানা অভিযোগ (পর্ব-১) ক্রিসেন্ট লেকে পোনা ছাড়া নিয়ে কন্টেন্ট : মৎসজীবি দলের ক্ষোভ অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন এগোবে না: ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় মিললেই ভারত সফর করবেন তারেক রহমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই, দ্রুত সব সংকটের সমাধান হবে : রিজভী

টেন্ডারের প্রমাণ নেই:তদন্ত প্রতিবেদনও গোপন হাসানুজ্জামান এর বিরুদ্ধে দূর্নীতির বড় অভিযোগ

#

আবদুর রহমান

২৫ জুলাই, ২০২৬,  9:32 PM

news image

 

শেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও ক্রয় কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও নথিপত্র গোপন রাখার প্রমাণ থাকলেও তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা । টেন্ডর ছাড়াই নিজের ইচ্ছেয় মালামাল কিনে সরকারি অর্থ তসরুপের প্রমাণ এসেছে গণমাধ্যমের হাতে। 

প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে শেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য দেখানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।


অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরে তদন্তের জন্য পাঠায়। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়, ময়মনসিংহকে অভিযোগ তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ে বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্য দেখানো, একই ধরনের পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন মূল্য প্রদর্শন, বিল-ভাউচার জালিয়াতি এবং প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে নতুন কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, সরকারি বিধি অনুসারে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন, দরপত্র আহ্বানের নোটিশ, বিড মূল্যায়ন প্রতিবেদন কিংবা কার্যাদেশের কপি তারা দেখাতে পারেননি।


এ বিষয়ে সম্ভাব্য কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার মের্সার্স নুর এন্টার প্রাইজ এর  সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। ফলে ক্রয় প্রক্রিয়া কতটা প্রতিযোগিতামূলক ছিল, নাকি পূর্বনির্ধারিতভাবে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছিল সে প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি।


অন্যদিকে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় অভিযোগ তদন্ত করেছে বলে জানা গেলেও সেই তদন্তে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে উপপরিচালক আলী হায়দার ভূইয়া  কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ক্রয়ে টেন্ডার বিজ্ঞাপন, বিড মূল্যায়ন, কার্যাদেশ ও বিল-ভাউচার জনস্বার্থে প্রকাশযোগ্য নথি প্রকাশ না করা হলে পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, চাহিদা অনুযায়ী ডেক্সটপ কম্পিউটার, ইউপিএস, ল্যাপটপ কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটার টেবিল, কম্পিউটার চেয়ার, এয়ারকন্ডিশন সহ সকল পণ্য নামিদামি ব্রান্ডের ক্রয় করার নির্দেশনা থাকলেও এখানে নিম্নমানের পণ্য ক্রয় করে ভুয়া  বিল ভাউচার এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা  হাতিয়ে নেয় এই সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান। ২০২৪সালের নভেম্বর মাসে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একাউন্ট থেকে কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন এই কর্মকর্তা।

৩ বছরের মধ্যে সমন্বয় পরিষদের ক্রয় কমিটির কোন মিটিং না করেই একক সিদ্ধান্তেই  সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।   দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের সহযোগিতার নামে ৮ জনের ভুয়া আবেদন দেখিয়ে ব্যাংক থেকে যে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।ফ্যাসিস্ট  আওয়ামী লীগ আমলের এই নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ক্ষমতার দাপটে তিনি নিয়মিত অফিস না করেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত থাকেন। 

দুদকের চিঠি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্ত নির্দেশ এবং অভিযোগপত্র এই তিনটি সরকারি নথিই ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় এবং টেন্ডার সংক্রান্ত মৌলিক নথি দেখানো না হওয়ায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে দুর্নীতির সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান  এর  বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন আমার অজান্তেই কিছু অনিয়ম হয়েছে এ ব্যাপারে তাকে খেয়াল রাখতে গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ করেন।  

সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সংশ্লিস্ট দপ্তরের সৎ কর্মকর্তা- কর্মচারিদের । 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম